উমরাহ পালনের পূর্ণাঙ্গ গাইড
প্রথমবার যাচ্ছেন? কোন মুহূর্তে কী করবেন, কী পড়বেন — চোখে দেখে বুঝুন, সহজ বাংলায়।
সহজ ভাষায় সাজানো সাধারণ নির্দেশনা। মাসআলাগত বিস্তারিত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন।
Jakwan TravelsFrom Dreams to Destination
পুরো উমরাহ ১২টি মুহূর্তে
যেকোনো কার্ডে চাপ দিলে বিস্তারিত অংশে চলে যাবে
যাত্রার আগে যা নিশ্চিত করবেন
কাবার চারপাশের মাতাফে তাওয়াফের জন্য সাধারণত ইহরাম ও Nusuk অ্যাপের বৈধ উমরাহ পারমিট দেখতে চাওয়া হয়। পারমিটের QR কোড মোবাইলে এবং স্ক্রিনশট হিসেবে রাখুন। নিয়ম সময়ে সময়ে বদলায় — যাত্রার আগে আপডেট জেনে নিন।
২ সেট ইহরামের কাপড়, বেল্ট, খোলা স্যান্ডেল, গন্ধহীন সাবান। সরাসরি জেদ্দা ফ্লাইট হলে সব হ্যান্ড ব্যাগে রাখুন।
তাওয়াফের জন্য অজু থাকা জরুরি। হারামে অজুখানা আছে, তবে ভিড়ে সময় লাগে — হোটেল থেকে অজু করে বের হওয়াই সহজ।
মাসিক অবস্থায় ইহরাম বাঁধা যায়, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ করা যায় না। এমন হলে করণীয় আগেই আলেমের কাছ থেকে জেনে নিন।
মিকাত ও ইহরাম
ফরজ
প্রতীকী মানচিত্র — ঢাকা থেকে সরাসরি জেদ্দা ফ্লাইটে মিকাত বিমানেই অতিক্রম করা হয়।
মিকাত কোথায়?
মিকাত হলো ইহরাম বাঁধার নির্ধারিত সীমানা। উমরাহর নিয়তে আসলে ইহরাম ছাড়া এই সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
ইহরামের পোশাক দেখতে যেমন
ইহরামের ধাপ
- গোসল ও পরিচ্ছন্নতা (সুন্নত)
গোসল করুন, নখ-চুল-অবাঞ্ছিত পশম আগেই কেটে নিন, অজু করুন। - ইহরামের কাপড় পরিধান
- পুরুষ: একটি কাপড় লুঙ্গির মতো (ইজার), একটি গায়ে চাদরের মতো (রিদা)। মাথা খোলা থাকবে, পায়ে খোলা স্যান্ডেল।
- নারী: স্বাভাবিক শালীন পোশাকই ইহরাম। মুখমণ্ডল ও হাতের তালু খোলা রাখবেন, তবে পর্দার প্রয়োজনে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা যায়।
- দুই রাকাত নামাজ (সুন্নত/মুস্তাহাব)
সম্ভব হলে ইহরামের কাপড় পরে, মাথা ঢাকা অবস্থায় — নিয়তের আগে। - নিয়ত
اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ عُمْرَةً
উচ্চারণআল্লা-হুম্মা লাব্বাইকা উমরাতান
অর্থহে আল্লাহ! আমি উমরাহর জন্য হাজির।
- তালবিয়া শুরুপুরুষরা উচ্চস্বরে, নারীরা নিচু স্বরে তালবিয়া পড়তে থাকবেন। তাওয়াফ শুরু করা পর্যন্ত (হাজরে আসওয়াদ বরাবর পৌঁছা পর্যন্ত) তালবিয়া চলবে।
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণলাব্বাইক আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।
অর্থহাজির আছি হে আল্লাহ, হাজির। আপনার কোনো শরীক নেই, হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরীক নেই।
মক্কায় পৌঁছে: মসজিদুল হারামে প্রবেশ
তাওয়াফের ঠিক আগের মুহূর্তগুলো
- হোটেলে মালপত্র রেখে প্রস্তুতি
প্রয়োজনে একটু বিশ্রাম নিন। ইহরাম অবস্থাতেই থাকবেন, তালবিয়া চলবে। অজু করে নিন। - গ্রুপের মিলনস্থল মনে রাখুন
কোন গেট দিয়ে ঢুকছেন, গেটের নম্বর দেখে রাখুন — হারিয়ে গেলে সেখানেই ফিরবেন। - ডান পা দিয়ে প্রবেশ করুন ও পড়ুন
بِسْمِ اللهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
উচ্চারণবিসমিল্লা-হি ওয়াস্সালা-তু ওয়াস্সালা-মু আলা রাসূলিল্লা-হ, আল্লা-হুম্মাফ্তাহ লী আবওয়া-বা রাহমাতিক।
অর্থআল্লাহর নামে; আল্লাহর রাসূলের উপর দরুদ ও সালাম। হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।
- সোজা তাওয়াফের দিকে
মসজিদুল হারামে তাওয়াফই প্রবেশের প্রথম আমল — আলাদা করে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ার প্রয়োজন নেই।
কাবা শরীফ প্রথম দেখা
প্রথম দৃষ্টিতে কাবা দেখে দাঁড়িয়ে মনের সব নেক দোয়া করুন। হারাম শরীফ দোয়ার শ্রেষ্ঠ স্থান — মন খুলে দোয়া করুন, ইনশাআল্লাহ কল্যাণ হবে।
তাওয়াফ
ফরজ · কাবা শরীফ ৭ চক্কর
তাওয়াফ শুরুর আগে
- তালবিয়া পড়া বন্ধ করুন।
- পুরুষ: ইজতিবা করুন — চাদর ডান বগলের নিচ দিয়ে এনে বাম কাঁধের উপর দিন, ডান কাঁধ খোলা থাকবে। এটি শুধু তাওয়াফের ৭ চক্করে।
- হাজরে আসওয়াদ বরাবর দাগে (সবুজ বাতি বরাবর) দাঁড়ান — এখান থেকেই শুরু, এখানেই প্রতি চক্কর শেষ।
তাওয়াফ শুরু
হাজরে আসওয়াদ বরাবর দাঁড়িয়ে পাথরের দিকে হাত তুলে ইশারা করে বলুন —
بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণবিসমিল্লা-হি ওয়াল্লা-হু আকবার
অর্থআল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
তাওয়াফের নিয়ম
- কাবা শরীফ থাকবে আপনার বাম পাশে — ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে ঘুরবেন। বুক কাবার দিকে ফিরিয়ে হাঁটবেন না।
- মোট ৭ চক্কর। প্রতি চক্করের শুরু ও শেষ হাজরে আসওয়াদ বরাবর।
- রমল (পুরুষ): প্রথম ৩ চক্করে ছোট ছোট দ্রুত পদক্ষেপে বীরের মতো হাঁটা, বাকি ৪ চক্কর স্বাভাবিক। নারীরা পুরো সময় স্বাভাবিক হাঁটবেন।
- রুকনে ইয়ামানি: সম্ভব হলে ডান হাতে স্পর্শ করুন; না পারলে ইশারা বা কিছু না বলেই এগিয়ে যান।
- হাতিম: কাবার উত্তর পাশের অর্ধবৃত্তাকার নিচু সাদা দেয়াল ঘেরা বড় অংশটি কাবারই অংশ — এর বাইরে দিয়ে ঘুরবেন, ভেতর দিয়ে নয়।
- হাজরে আসওয়াদ চিনবেন যেভাবে: কাবার যে কোণের পাশে সোনালি দরজা, সেই কোণেই রুপালি ফ্রেমে বাঁধানো কালো পাথর — মাটি থেকে প্রায় বুক-সমান উচ্চতায়।
- চক্করের সংখ্যায় সন্দেহ হলে কম সংখ্যাটি ধরে বাকি চক্কর পূর্ণ করুন।
রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণরব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাসানাতাঁও ওয়া কিনা আযা-বান্না-র
অর্থহে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।
বাকি সময় যিকির, দরুদ, কুরআন তিলাওয়াত ও নিজের ভাষায় মনের সব দোয়া করুন — প্রতি চক্করের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বাধ্যতামূলক নয়।
তাওয়াফ শেষে দুই রাকাত নামাজ
৭ চক্কর শেষ হলে পুরুষরা ডান কাঁধ ঢেকে নিন (ইজতিবা শেষ)। এরপর মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে — ভিড় হলে মসজিদের যেকোনো জায়গায় — দুই রাকাত নামাজ পড়ুন। তাওয়াফকারীদের পথ আটকে নামাজে দাঁড়াবেন না।
- ১ম রাকাত: সূরা ফাতিহা + সূরা কাফিরুন
- ২য় রাকাত: সূরা ফাতিহা + সূরা ইখলাস
মাকামে ইব্রাহিমের দিকে যাওয়ার সময় পড়ুন —
وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى
উচ্চারণওয়াত্তাখিযু মিম্ মাকা-মি ইবরা-হীমা মুসাল্লা
অর্থতোমরা মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান বানাও।
জমজমের পানি পান
নামাজের পর কিবলামুখী হয়ে, বিসমিল্লাহ বলে জমজমের পানি পান করুন (দাঁড়িয়ে বা বসে — দুটোই চলে), মাথায়ও কিছু দিন। হারামের ভেতরে সব জায়গায় জমজমের কুলার আছে। পান করার সময় এই দোয়া করতে পারেন —
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ
উচ্চারণআল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান না-ফিআ, ওয়া রিযকান ওয়া-সিআ, ওয়া শিফা-আম্ মিন কুল্লি দা-।
অর্থহে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিযিক এবং সর্বপ্রকার রোগ থেকে আরোগ্য চাই।
নিজের ভাষায়ও দোয়া করুন — অন্তর পরিষ্কার হওয়া, কলবের রোগ ও দেহের রোগ থেকে মুক্তি। হাদিসে আছে: জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, সে উদ্দেশ্যেই তা কার্যকর।
সাঈ (সাফা ও মারওয়া)
ওয়াজিব · ৭ চক্কর
সাফা পাহাড়ে উঠে পড়ুন
জমজম পানের পর "সাফা" লেখা সাইন দেখে সেদিকে যান। সাফার কাছে পৌঁছে পড়ুন —
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ ... أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِهِ
উচ্চারণইন্নাস্ সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআ-ইরিল্লা-হ ... আবদাউ বিমা বাদাআল্লা-হু বিহি
অর্থনিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত ... আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন আমিও তা দিয়েই শুরু করছি।
এরপর কাবার দিকে মুখ করে দোয়ার মতো দুই হাত তুলে "আল্লাহু আকবার" বলুন, তারপর এই যিকির পড়ুন — মোট ৩ বার, মাঝে মাঝে নিজের দোয়া করুন —
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ
উচ্চারণলা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদীর। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহ, আনজাযা ওয়া'দাহ, ওয়া নাসারা আবদাহ, ওয়া হাযামাল আহযা-বা ওয়াহদাহ।
অর্থআল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একা। তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সকল দলকে পরাজিত করেছেন।
মারওয়ায় পৌঁছেও একইভাবে কাবার দিকে ফিরে এই যিকির ও দোয়া করবেন। আয়াতটি শুধু প্রথমবার সাফায় পড়া হয়।
সাঈর পথ চিনে নিন
- সাঈর পথ (মাসআ) এখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লম্বা গ্যালারি। সাফা থেকে মারওয়া যাওয়ার লেন আর মারওয়া থেকে সাফা ফেরার লেন আলাদা — মাঝখানে বর্ডার দিয়ে ভাগ করা।
- মাঝের সংরক্ষিত লেন বয়স্ক ও হুইলচেয়ার যাত্রীদের জন্য — সুস্থ যাত্রীরা সেখানে হাঁটবেন না।
- সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের অংশ কাচ দিয়ে ঘেরা। পাহাড়ের জায়গায় পৌঁছে কাবার দিকে ফিরে দোয়া করলেই হবে — পাথরে চড়ার প্রয়োজন নেই।
- ভিড় বেশি হলে উপরের তলাতেও সাঈ করা যায়।
সাঈর গণনা (খুব গুরুত্বপূর্ণ)
- সাফা → মারওয়া = ১ চক্কর
- মারওয়া → সাফা = ২ চক্কর
- এভাবে মোট ৭ চক্কর, যা মারওয়ায় গিয়ে শেষ হবে (সাফায় নয়)।
- সব মিলিয়ে সাধারণত ৩ কিলোমিটারের বেশি হাঁটা — বয়স্কদের জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা রাখুন।
সবুজ বাতির মাঝখানে
দুই সবুজ বাতির মধ্যবর্তী অংশে পুরুষরা দ্রুত গতিতে দৌড়ানোর মতো হাঁটবেন। নারীরা স্বাভাবিক হাঁটবেন।
সাঈর পুরো সময় নির্দিষ্ট দোয়া বাধ্যতামূলক নয় — যিকির, দরুদ ও নিজের মনের দোয়া করুন। সাঈ শেষে আলাদা নির্ধারিত কোনো নামাজ উমরাহর অংশ নয়।
হলক বা কসর
ওয়াজিব
- পুরুষ: পুরো মাথা মুণ্ডানো (হলক — উত্তম) অথবা পুরো মাথার চুল সমানভাবে ছোট করা (কসর)।
- নারী: চুলের অগ্রভাগ থেকে আঙুলের এক কর পরিমাণ কেটে ফেলা। মাথা মুণ্ডানো নিষেধ।
- মারওয়ার কাছেই সাধারণত সেলুন পাওয়া যায়; নারীরা হোটেলে গিয়ে মাহরাম বা অন্য নারীর সাহায্যে কাটতে পারেন।
ইহরাম অবস্থায় যা থেকে বিরত থাকতে হবে
সবার জন্য
- ১সুগন্ধি ব্যবহার — সুগন্ধিযুক্ত সাবান, শ্যাম্পু, স্নো, পাউডার, লোশন, আতর, পারফিউম।গন্ধহীন সাবান/শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে
- ২চুল, পশম বা নখ কাটা/উপড়ানো
- ৩ঝগড়া-বিবাদ, গালাগালি, কটু কথা — এমনকি বিরক্তিকর কথাও
- ৪স্ত্রী-সহবাস ও এ সংক্রান্ত সব উত্তেজক আচরণএতে উমরাহ নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা কাফফারা লাগে
- ৫বিবাহ করা বা বিবাহের প্রস্তাব/আকদ
- ৬স্থলভাগের বন্য প্রাণী শিকার করা বা শিকারে সহযোগিতা করা
- ৭হারাম এলাকার গাছপালা কাটা বা ঘাস উপড়ানো
শুধু পুরুষদের জন্য
- ৮শরীরের মাপে সেলাই করা পোশাক পরা — শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি, আন্ডারওয়্যার, পাজামা
- ৯মাথা ঢাকা — টুপি, পাগড়ি, রুমাল দিয়ে মাথা আবৃত করাছাতা ব্যবহার বা ছায়ায় থাকা জায়েজ
- ১০পায়ের পাতা ও গোড়ালি ঢাকা জুতা/মোজা — খোলা স্যান্ডেল পরতে হবে
শুধু নারীদের জন্য
- ১১মুখমণ্ডলে নেকাব লাগানো ও হাতে দস্তানা পরাপর্দার প্রয়োজনে মুখের উপর কাপড় ঝুলিয়ে রাখা যাবে — তবে তা মুখের সাথে লেপ্টে থাকবে না
যা করা যাবে (ভুল ধারণা দূর করুন)
- গোসল করা, গন্ধহীন সাবান দিয়ে গোসল
- চশমা, ঘড়ি, আংটি, বেল্ট, ব্যাগ ব্যবহার
- ছাতা ব্যবহার করা, ছায়ায় বসা
- অসাবধানে চুল পড়ে গেলে — কোনো সমস্যা নেই
- দাঁত ব্রাশ করা (গন্ধহীন পেস্ট)
- ইহরামের কাপড় বদলানো বা ধোয়া
উমরাহ সফরে যা সাথে নেবেন
পুরুষ ও মহিলা — আলাদা তালিকা · টিক দিয়ে মিলিয়ে নিন
ব্যাগ গোছানোর সময় নিচের তালিকা খুলে রাখুন। যেটা নেওয়া হয়ে গেছে, তাতে চাপ দিয়ে টিক দিন।
মুয়াল্লেমের আসল দায়িত্ব কী?
সঠিক ধারণা থাকলে সফরে অযথা কষ্ট ও মনোমালিন্য হয় না
উমরাহতে মুয়াল্লেম বলতে সাধারণত মক্কা-মদিনায় দলের সাথে থাকা এজেন্সির গাইডকে বোঝায়। তিনি একসাথে অনেক যাত্রীর দেখভাল করেন — কারো ব্যক্তিগত খাদেম নন। তাই তাঁর কাজের সীমা জেনে গেলে আপনার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত থাকবে।
✓মুয়াল্লেম সাধারণত যা করেন
- ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ ও হলক-কসর — উমরাহর ধাপগুলো দলকে বুঝিয়ে দেন ও দিকনির্দেশনা দেন
- প্যাকেজ অনুযায়ী এয়ারপোর্ট, মক্কা-মদিনার হোটেল ও জিয়ারতে দলের যাতায়াত সমন্বয় করেন
- হোটেলে পৌঁছানো ও চেক-ইনের সময় দলকে সহায়তা করেন
- সময়সূচি, জমায়েতের স্থান ও স্থানীয় নিয়মকানুন জানিয়ে দেন
- কেউ হারিয়ে গেলে বা অসুস্থ হলে খোঁজ নেন, হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগে সাহায্য করেন
- দলগত সমস্যায় এজেন্সি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখেন
✕যা মুয়াল্লেমের দায়িত্বে পড়ে না
- প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মালামাল বহন করা বা পাহারা দেওয়া
- প্যাকেজের বাইরের সুবিধা — আলাদা রুম, আলাদা গাড়ি, বিশেষ খাবার বা কেনাকাটায় সাথে যাওয়া
- প্রতিটি নামাজ ও তাওয়াফে প্রত্যেককে আলাদা করে সাথে নিয়ে ঘোরা
- হারানো মোবাইল, টাকা বা ব্যক্তিগত জিনিস ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া
- চিকিৎসার খরচ বা ওষুধের ব্যবস্থা করা
- ফ্লাইট বদল, হোটেলের রুম পরিবর্তন বা টাকা ফেরত — এগুলো এজেন্সির বিষয়
উমরাহ যাত্রীরা যেসব দিক বিবেচনা করে মুয়াল্লেমকে মানবেন
- একজন, কিন্তু অনেক যাত্রী — একজন মুয়াল্লেম একসাথে অনেক যাত্রী দেখেন। সবসময় আপনাকে আলাদা সময় দেওয়া সম্ভব নয়, ধৈর্য রাখুন।
- সময় ও জায়গা মেনে চলুন — একজনের দেরিতে পুরো দল আটকে যায়, অনেক সময় গাড়িও ছেড়ে দিতে হয়।
- সব সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে নয় — মসজিদুল হারামে প্রবেশ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, Nusuk পারমিটের সময় ও গাড়ি চলাচলের অনেক নিয়ম সৌদি কর্তৃপক্ষের। মুয়াল্লেম চাইলেও এগুলো বদলাতে পারেন না।
- নিজের কার্ড নিজের কাছে — আইডি কার্ড, হোটেল কার্ড ও মুয়াল্লেম/গাইডের মোবাইল নম্বর সবসময় সাথে রাখুন।
- চাহিদা জানান সঠিক পথে — অভিযোগ বা বিশেষ প্রয়োজন থাকলে দলনেতা বা এজেন্সির মাধ্যমে শান্তভাবে জানান।
- প্যাকেজে কী আছে, আগেই জানুন — রওনা দেওয়ার আগে এজেন্সির কাছ থেকে কোন সেবা প্যাকেজে আছে আর কোনটা নেই, লিখিতভাবে জেনে নিন।
- ইবাদতের সফরে ঝগড়া নয় — ইহরাম অবস্থায় ঝগড়া-বিবাদ নিষেধ। মতের অমিল হলেও আচরণ নম্র রাখুন।
দল থেকে হারিয়ে গেলে বা জিনিস হারালে কী করবেন
আগে থেকে প্রস্তুতি থাকলে হারিয়ে গেলেও ভয়ের কিছু নেই
মসজিদুল হারামে লাখো মানুষের ভিড়, সব গেট দেখতে প্রায় একরকম। তাই সঙ্গীদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা — বিশেষ করে তাওয়াফের সময়। ঘাবড়ানোর কিছু নেই, শুধু নিচের নিয়মগুলো আগে থেকে জেনে রাখুন।
হারানোর আগেই: মিলনস্থল ঠিক করে নিন
দলের সবাইকে একটা নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দিন — যেমন অমুক নম্বর বাতি বা অমুক পিলারের নিচে। কেউ আলাদা হয়ে গেলে তাওয়াফ শেষে সবাই সেখানে এসে বসবেন। সবাই একত্র হলে তারপর একসাথে সাঈ করতে যাবেন।
সাঈর জন্যও একইভাবে আলাদা একটা মিলনস্থল ঠিক করুন — যেমন মারওয়া পাহাড়ের কাছে নির্দিষ্ট কোনো জায়গা। সাঈ শেষে সবাই সেখানে জড়ো হবেন, তারপর একসাথে হলক/কসরের জন্য বের হবেন।
হারিয়ে গেলে যা করবেন
- মাথা ঠান্ডা রাখুন — ভিড়ের মধ্যে দৌড়ে খুঁজতে যাবেন না, এতে আরও দূরে সরে যাবেন।
- আগে ঠিক করা মিলনস্থলে চলে যান — ইবাদত শেষ করে সেখানে বসে অপেক্ষা করুন। মিলনস্থল মনে না থাকলে যে গেট দিয়ে ঢুকেছিলেন, সেই গেটে ফিরে যান।
- ফোন থাকলে যোগাযোগ করুন — দলনেতা, মুয়াল্লেম বা সঙ্গীকে কল/মেসেজ দিন, সম্ভব হলে লোকেশন শেয়ার করুন।
- ফোন না থাকলে সাহায্য নিন — হারামের নিরাপত্তাকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে যান। হারাম কর্তৃপক্ষের পথহারা যাত্রীদের সহায়তা কেন্দ্র ও Lost & Found অফিস আছে — সেখানে নিজের নাম, এজেন্সি ও হোটেলের নাম জানিয়ে নিজেকে ঘোষণা দিন, যাতে দলের লোকজন খোঁজ পান।
- একা হোটেলে ফিরতে হলে — হোটেল কার্ডটি ট্যাক্সি চালককে দেখান। সম্ভব হলে বাংলাদেশি চালকের ট্যাক্সি নিন, কারণ অন্য ভাষায় বুঝতে বা বোঝাতে কষ্ট হবে। ওঠার আগেই ভাড়া ঠিক করে নিন।
- হোটেলে পৌঁছে খবর দিন — দলনেতা বা মুয়াল্লেমকে জানান যে আপনি ফিরেছেন, যাতে তাঁরা খোঁজাখুঁজি বন্ধ করতে পারেন।
সবসময় পকেটে বা গলায় রাখবেন
- হোটেল কার্ড — হোটেলের নাম ও ঠিকানা (আরবিসহ)
- কিছু নগদ সৌদি রিয়াল — ট্যাক্সি ভাড়ার জন্য যথেষ্ট
- এজেন্সির নম্বর — IMO/WhatsApp নম্বর হলে ইন্টারনেট দিয়েই যোগাযোগ করতে পারবেন
- মুয়াল্লেম/গাইডের নম্বর
- হোটেল রিসেপশনের নম্বর
- দেশে পরিবারের অন্তত একজনের নম্বর
সারাক্ষণ ইন্টারনেট ও চার্জ নিশ্চিত করুন
দেশের অপারেটরের উমরাহ রোমিং প্যাক নিয়ে গেলে নেমেই নেট পাবেন। ১৫ দিনের প্যাক সাধারণত ৮০০–৯০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় (অপারেটর ও সময়ভেদে দাম বদলায়)। যাওয়ার আগে অবশ্যই রোমিং সার্ভিস চালু আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
এয়ারপোর্ট বা দোকান থেকে লোকাল সিম কেনা যায়, পাসপোর্ট সাথে রাখবেন। STC-র নেটওয়ার্ক মক্কা-মদিনায় ভালো পাওয়া যায়।
হোটেলে সাধারণত ওয়াই-ফাই থাকে। বাইরে থাকলে পাশের কোনো হোটেল, শপিং মল বা মার্কেটে গিয়ে তাদের ওয়াই-ফাইতে যুক্ত হয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করুন।
বের হওয়ার আগে ফোন পুরো চার্জ দিন। ছোট ও মানসম্মত একটা পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। বিমানে পাওয়ার ব্যাংক হ্যান্ড ব্যাগে রাখবেন, চেক-ইন লাগেজে নয়।
জিনিসপত্র হারালে — কোনটায় কী করবেন
উমরাহ একটি কষ্টের নাম
কষ্ট আছে — কিন্তু তা প্রশান্তির কষ্ট, আর আপনি পারবেন
উমরাহ একটি কষ্টের নাম। শুধু উমরাহ নয়, প্রতিটি ইবাদতেই কষ্ট আছে — কিন্তু সেটাই প্রশান্তির কষ্ট।
নামাজ পড়ি, সেখানে শারীরিক কসরত আছে। রোজা রাখি, সারাদিন না খেয়ে থাকি। জাকাত দিই, দেখতে মনে হয় কষ্টের অর্জিত অর্থ অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছি। আর ঈমান এনে দ্বীন মেনে চলি বলে মন চাইলেও অনেক কিছু করতে পারি না, খেতে পারি না, পরতে পারি না। এটাও একটা মনের কষ্ট।
তেমনি উমরাহতে যাচ্ছেন, কিছুটা কষ্ট হবেই।
লম্বা বিমানযাত্রায় কষ্ট হবে। বাড়িতে সবাই আপনার জন্য অনেক কিছু করে দিত। নিজের রুমে নিজের মতো থাকতেন, মনমতো বাতি জ্বালাতেন-নেভাতেন, যখন খুশি ওয়াশরুমে যেতেন। এখানে সেটা পারবেন না। আরও ৪ জন কী ভাববেন, সেটা চিন্তা করে চলতে হবে। এটাও কষ্ট।
ইমিগ্রেশনে অনেক সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেটা কষ্ট। তাওয়াফ কষ্ট, সাঈ কষ্ট। পুরুষ মেহমানদের জন্য নিজের অতি যত্নে গড়া চুল কেটে ফেলা কষ্ট, সুন্দর রঙিন কাপড় ফেলে কাফনের মতো সাদা দুই টুকরা কাপড় পরা কষ্ট। অবশ্যই এগুলো প্রশান্তির কষ্ট।
সেখানে আপনার ঘুম ঠিকমতো নাও হতে পারে। খাবার সময়মতো না আসতে পারে। খাবার, হোটেল, এমনকি মুয়াল্লেমের সেবাও মনমতো না হতে পারে।
কিন্তু আপনি মানুষ। আপনি টিকে থাকতে শিখেছেন, মানিয়ে নিতে শিখেছেন। আপনি পারবেন। মনে বল রাখুন।
ধাপে ধাপে সম্ভাব্য অসুবিধা ও সহজ সমাধান
আগে জানা থাকলে কোনো কিছুই অচেনা লাগবে না
যে ধাপটি জানতে চান, তাতে চাপ দিন।
✈️ যাত্রার আগে ও এয়ারপোর্টে
- টিকিটে ব্যাগেজ সীমা দেখে বাসায় ওজন মেপে নিন।
- ওষুধ (প্রেসক্রিপশনসহ), চশমা ও এক সেট কাপড় হাতের ব্যাগে রাখুন।
- পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিটের ফটোকপি রাখুন, মোবাইলে ছবিও তুলে রাখুন।
- হাতের ব্যাগে ১০০ মিলির বেশি তরল বা ধারালো জিনিস রাখবেন না। পাওয়ার ব্যাংক সবসময় হাতের ব্যাগে রাখুন।
- ইমিগ্রেশনে কখনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা দীর্ঘ অপেক্ষা হতে পারে। শান্ত থাকুন, সত্য উত্তর দিন, গ্রুপের সাথে থাকুন।
💺 বিমানের ভেতরে
- সিট খুঁজে না পেলে বোর্ডিং পাস কেবিন ক্রু-কে দেখান।
- সিটবেল্ট লাগানোর সময় "ক্লিক" শব্দ শুনুন। খুলতে ঢাকনা উপরে টানুন।
- ওয়াশরুমের দরজা লক করলে বাতি জ্বলে। ফ্লাশ বাটন দেয়ালে থাকে।
- ওজু এয়ারপোর্টেই করে নিন।
🛬 সৌদিতে নেমে
- ইমিগ্রেশনে অপেক্ষা স্বাভাবিক। ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হতে পারে।
- ব্যাগে রঙিন ফিতা বা গ্রুপের ট্যাগ লাগিয়ে রাখুন, সহজে চিনতে পারবেন।
- পাসপোর্ট শুধু অফিসিয়াল কাউন্টারে বা মুয়াল্লেম সাহেবের হাতে দিন।
🏨 হোটেলে
- লিফটে নিজের ফ্লোর নম্বর চাপুন। নিচতলা সাধারণত "G" বা "0"।
- কার্ড-চাবি দরজার সেন্সরে ছোঁয়ান। রুমের ভেতরের স্লটে কার্ড রাখলে বিদ্যুৎ চালু হয়।
- হাই কমোডে স্বাভাবিকভাবে বসুন, উপরে পা রাখবেন না। হ্যান্ড শাওয়ার ব্যবহার করুন, শেষে ফ্লাশ দিন।
🤝 রুমমেটদের সাথে
- এক রুমে কয়েকজন থাকেন, অনেক সময় অপরিচিত। প্রথম দিনেই সবাই মিলে ঠিক করুন: এসির তাপমাত্রা, বাতি নেভানোর সময় আর ফজরের আগে ওয়াশরুম ব্যবহারের ক্রম।
- ওয়াশরুম পরিষ্কার রাখুন। রাতে ফোনের শব্দ কম রাখুন। অন্যের জিনিস নিতে অনুমতি নিন।
- মূল্যবান জিনিস লাগেজে তালাবদ্ধ করে রাখুন।
- মতভেদ হলে তর্ক না করে ধৈর্য ধরুন। এটি ইবাদতের সফর, আর এখানে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় পাথেয়।
🕋 হারাম শরিফে
- জুতা ছোট ব্যাগে সাথে রাখুন।
- চক্কর গুনতে তাসবিহ বা কাউন্টার রাখুন। জমজম পান করুন, ছাতা সাথে নিন।
- হুইলচেয়ার লাগলে আগে থেকেই জানিয়ে রাখুন।
মুয়াল্লেম, জিয়ারত ও রওজা
বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখলে সফর হয় প্রশান্তির
মুয়াল্লেম সাহেব ও আপনার নিজের প্রস্তুতি
মুয়াল্লেম সাহেব পুরো কাফেলার খেদমতে থাকেন। তাঁর মূল দায়িত্ব আপনার উমরাহ সঠিকভাবে আদায় করানো — ইহরাম থেকে হালক পর্যন্ত কাফেলাকে নিয়ে উমরাহ আদায়, জিয়ারতে নিয়ে গিয়ে স্থানগুলোর ইতিহাস ও ফজিলত বলা, আর উমরাহ ও নামাজের মাসআলা বলে দেওয়া।
আপনার নিজের প্রস্তুতিই সবচেয়ে বড় সহায়
- প্রথম দিনেই হোটেল থেকে হারামের পথ আর নিজের গেট নম্বর ভালো করে চিনে নিন। তাহলে প্রতি ওয়াক্তে নিজেই নিশ্চিন্তে যেতে পারবেন।
- রুমমেট বা পরিচিত কারো সাথে জোড়ায় চলুন, একে অপরের খেয়াল রাখুন।
- প্রতিটি রুম থেকে একজন রুম প্রতিনিধি ঠিক করুন। ছোটখাটো প্রয়োজন বা প্রশ্ন তাঁর মাধ্যমে একসাথে মুয়াল্লেম সাহেবকে জানান।
- খেজুর বা অন্য কেনাকাটায় কয়েকজন মিলে যান। কেনার আগে কয়েকটি দোকানে দাম দেখে নিন।
জিয়ারত ও রওজা: যা আগে থেকে জেনে রাখা ভালো
- রওজা (রিয়াজুল জান্নাহ): নুসুক অ্যাপে অনলাইনে অনুমতি নিতে হয়, আর স্লট সীমিত। ভিড়ে বা সার্ভারের সমস্যায় স্লট পেতে দেরি হতে পারে, কখনো নাও মিলতে পারে। এটি পুরোপুরি সৌদি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা। স্লট না মিললেও মসজিদে নববীতে নামাজ আর রাসূল (সা.)-কে সালাম পেশের সুযোগ থাকে।
- সৌদি সরকার অনেক স্থানে নামা নিষেধ করেছে, তাই সেখানে বাস থেকেই দেখানো হয়। এটি প্যাকেজের ঘাটতি নয়।
- কিছু স্থানে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে নামা যায়। জিয়ারতের সূচি সেভাবেই সাজানো হয়।
- এটি গ্রুপ সফর। একজনের দেরি হলে, কাউকে খুঁজতে সময় গেলে, যানজট হলে বা নামাজের ওয়াক্ত চলে এলে কোনো স্থানের সময় কমে যেতে পারে, কোনো স্থান বাদও পড়তে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই বাসে ফিরুন।
- কোথায় নামা হবে, কোথায় হবে না, তা নিয়ে কাফেলায় নানা মত থাকতে পারে। নিয়ম, সময়, নিরাপত্তা আর বয়স্ক মেহমানদের কথা ভেবে মুয়াল্লেম সাহেব সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত সহজভাবে মেনে নিন।
- সৌদি কর্তৃপক্ষ সময়ে সময়ে নিয়ম বদলায়।
স্বাস্থ্য, কেনাকাটা, ফেরা ও কোনো অসুবিধা হলে
ছোট প্রস্তুতি, বড় স্বস্তি
স্বাস্থ্য, কেনাকাটা ও ফেরা
- সফরে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। প্রথম কদিন হালকা খাবার খান, মাস্ক রাখুন, ওষুধের জন্য মোবাইলে অ্যালার্ম দিন।
- অসুস্থ লাগলে সঙ্গী ও রুম প্রতিনিধিকে জানান।
- টাকা দুই জায়গায় ভাগ করে রাখুন। কেনাকাটা সফরের শেষের দিকে করুন।
- ফেরার আগে ব্যাগ মেপে নিন। জমজম নেওয়ার নিয়ম এয়ারলাইনভেদে আলাদা, তাই আমাদের কাছে জেনে নিন।
কোনো অসুবিধা হলে
- ছোটখাটো বিষয় আগে রুমমেটদের সাথে মিলে সমাধানের চেষ্টা করুন। দরকার হলে রুম প্রতিনিধির মাধ্যমে মুয়াল্লেম সাহেবকে জানান।
- জরুরি প্রয়োজনে অফিসে ফোন করুন: 01929-222954, 01622-339261
- একই কাফেলায় সবার প্যাকেজ এক নাও হতে পারে, যেমন হোটেলের দূরত্ব বা রুমের ধরন আলাদা হয়। তাই অন্যের সাথে না মিলিয়ে নিজের বুকিংয়ের বিবরণ দেখুন।
- অন্যের অসুবিধার কথা শুনে নিজের সফরের প্রশান্তি নষ্ট করবেন না। সবার অভিজ্ঞতা এক রকম হয় না।
ভিডিওতে দেখে নিন
মক্কা-মদিনা থেকে আমাদের ধারণ করা উমরাহ গাইড
নিজের চোখে উমরাহ দেখুন — ইহরাম থেকে হালাক পর্যন্ত, ধাপে ধাপে
মক্কা জিয়ারাহ — হেরা গুহা থেকে আরাফাত ময়দান
মদিনায় গিয়ে এই জায়গাগুলো মিস করবেন না
তায়েফ জিয়ারত — নবীজির (ﷺ) কষ্টের শহর তায়েফ
জমজম কূপের ইতিহাস ও ফজিলত
Jeddah Airport Terminal Guide বাংলায়
মক্কা-মদিনায় Taxi, Bus, Mini Bus কোথায় পাবেন?
নুসুক লিস্টেড হোটেল-ট্রান্সপোর্টের দাম বেশি কেন?উমরাহ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
আমাদের সাথে উমরাহ করে আসা মেহমানদের নিজের কথা
Jeddah Airport থেকে Live Review — উমরাহ কেমন ছিল?
ওমরাহ স্বপ্নপূরণ — রিয়েল ক্লায়েন্ট রিভিউকাফেলা পরিচালকের জন্য প্রি-ডিপার্চার চেকলিস্ট
উমরাহ প্যাকেজ ও ভিসা নিয়ে জানতে চান?
অফিস খোলা প্রতিদিন সকাল ৯:৩০ থেকে রাত ৯:৩০ পর্যন্ত।
প্রস্তুতকারী: Jakwan Travels | মাসআলা সংক্রান্ত প্রশ্নে নির্ভরযোগ্য আলেমের শরণাপন্ন হোন।